নিম পাতা যে কতটা উপকারি তা সকলেরই জানা। চর্মরোগ ঠেকাতে একাই একশো এই পাতা। আয়ুর্বেদের একেবারে গোড়ার দিক থেকেই নিম পাতার জলে স্নান করার রীতি রয়েছে। মূলত ঋতুসন্ধির সময় অর্থাৎ ঋতু পরিবর্তনের সময় নিম পাতার জলে স্নান করলে তা শরীরে একটি ঢাল তৈরি করে যা আমাদের কমন ফ্লু কিংবা ঠান্ডা লাগা থেকে রক্ষা করে। দেহের অনাক্রম্যতা বৃদ্ধিতেও অবদান আছে নিম পাতার। এখন করোনার সময়েও অত্যন্ত অত্যাবশ্য়কীয় অনাক্রম্যতা

এক নজরে নিম পাতার উপকারিতা:

# ম্যালেরিয়া

নিম পাতার নির্যাস ব্যবহারে ম্যালেরিয়া প্রশমিত হয়। পানি বা এলকোহল মিশ্রিত নিম পাতার নির্যাস ব্যবহারে এই ফল পাওয়া যায়।

# এইডস

নিম গাছের বাকল হতে আহরিত নির্যাস এইডস ভাইরাসকে মারতে সক্ষম। নিম পাতার নির্যাস অথবা পুরু পাতা অথবা নিম পাতার চা পান করলে এইডস উপশম হয়।

# ব্রণ

নিম পাতা পিষ্ট করে মধুর সাথে মিশিয়ে প্রলেপ দিলে ব্রণ সেরে যায়।

# জন্ডিস

২৫-৩০ ফোঁটা নিম পাতার রস একটু মধুর সাথে মিশিয়ে সকালে খালি পেটে খেলে জন্ডিস আরোগ্য হয়।

# বহুমূত্র রোগ

প্রতিদিন ১ টেবিল চামচ নিম পতার রস সকালে খালি পেটে ৩ মাস খেলে ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রনে থাকে। প্রতিদিন সকালে ১০টি নিম পাতা গুড়া বা চিবিয়ে সেবন করলে ডায়বেটিস উপকার হয়। নিম পাতার রস খেলে ৩০-৭০% ইনসুলিন নেয়ার প্রবণতা কমে যায়।

# বসন্ত

কাঁচা হলুদের সাথে নিম পাতা বেটে বসন্তের গুটিতে দিলে গুটি দ্রুত শুকিয়ে যায়।

# রাতকানা

নিম ফুল ভাজা খেলে রাতকানা উপশম হয়।

# চোখের ব্যথা

নিম পাতা সামান্য শুস্ক আদা ও সৈন্ধব লবণ একত্রে পিষে সামান্য গরম করে একটি পরিস্কার পাতলা কাপড়ে লাগিয়ে তা দিয়ে চোখ ঢেকে দিলে চোখের স্ফীতি ও ব্যথা সেরে যায়।

# লাল মেহরোগ

নিম মূলের ছালের রস ও কাঁচা দুধ মিশিয়ে কিছুদিন খেলে লাল মেহরোগ উপশম হয়।

# মাথাধরা

নিম তেল মাখলে মাথা ধরা কমে যায়।

# উকুন

কারো মাথায় উকুন থাকলে নিমের ফুল বেটে মাথায় মাখুন, উকুন মরে যাবে।

# ক্যান্সার

নিম তেল, বাকল ও পাতার নির্যাস ব্যবহারে ক্যান্সার-টিউমার, স্কীন ক্যান্সার প্রভৃতি নিয়ণ্ত্রনে রাখা যায়।

# হৃদরোগ

নিম পাতার নির্যাস খেলে হৃদরোগে উপকার পাওয়া যায়। নিম নির্যাস ব্লাড প্রেসার ও ক্লোরেস্টোরল কমায়। রক্ত পাতলা করে, হার্টবিট কমায়।

# কৃমি নিরসন

৩-৪গ্রাম নিম ছাল চূর্ণ সামান্য পরিমাণ সৈন্ধব লবণসহ সকালে খালি পেটে সেবন করলে কৃমির উপদ্রব হতে রক্ষা পাওয়া যায়। নিয়মিত এক সপ্তাহ সেবন করতে হব। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ১-২ গ্রাম মাত্রায় খেতে হবে।

# দাঁতের যত্ন

কচি নিম ডাল দিয়ে দাঁত মাজলে দাঁত ভাল থাকে। নিম পাউডার দিয়ে দাঁত মাজলে দাঁত ও মাঁড়ি ভাল থাকে। নিম পাতার নির্যাস পানিতে মিশিয়ে বা নিম দিয়ে মুখ আলতোভাবে ধুয়ে ফেললে দাঁতের আক্রমণ, দাঁতের পচন, রক্তপাত ও মাড়ির ব্যথা কমে যায়।

# স্বপ্নদোষ প্রশমন

নিম ছালের রস ১-২ চা চামচ ১ (এক) গ্লাস পরিমাণ গরুর দুধে মিশিয়ে রাত্রে মুতে যাবার অগে সেবন করলে স্বপ্নদোষ প্রশমিত হয়।

#খোস-পাঁচড়া ও পুরনো ক্ষত

নিম পাতার সাথে সামান্য কাঁচা হলুদ পিষে নিয়ে আক্রান্ত স্থানে ৭-১০ দিন ব্যবহার করলে খোস-পাঁচড়া ও পুরনো ক্ষতের নির্মূল হবে। নিম পাতা ঘিয়ে ভেজে সেই ঘি ক্ষতে লাগালে ক্ষত অতি সত্বর আরোগ্য হয়।

# বমি

বমি আসতে থাকলে নিম পাতার রস ৫-৬ ফোঁটা দুধ দিয়ে খেলে বমি হবেনা।

# আলসার

নিম পাতার নির্যাস ও নিম বীজ হতে নিম্বিডিন নির্যাস খেলে পেপটিক ও ডিওডেনাল আলসার উপশম হয়।

নিম পাতা ব্যবহারের সঠিক নিয়ম:
প্রথমে বালতিতে দুটি নিম পাতা রাখুন। তারপর তাতে গরম জল ঢালুন। তারপর জল ঠান্ডা হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। জল ঠান্ডা হয়ে গেলে নিম পাতা সরিয়ে দিন। তারপর ব্যবহার করুন।

Write A Comment

4 × 3 =

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close