আমার মুখে বসন্তের দাগ থাকায় আমার মনে হতো যে আমাকে দেখলেই মেয়েদের বমি হয়ে যাবে, সুতরাং কোন মেয়ে আমাকে কিছুতেই কাছে যেতে দেবে না।

এর ফল কি হলো জানেন? আমি মেয়েদের থেকে দূরে বহুদূরে থাকতাম, আর যদি সামনে পড়েই যেতাম, খুব ভালমানুষের মত ভদ্র নম্র সুস্থ আচরণ করতাম। তার ফল অতি মারাত্মক।

আমি ৬৭ বছরের বুড়া, আমার ছেলেদের বয়স ৪১ আর ৩১, মেয়ের বয়স ৩৬; এই গল্প ওরা পড়লে কি ভাববে? যাই হোক রিস্ক নিলাম।

১। আমার বয়স যখন ১৫, তখন এক প্রতিবেশিনী, অতিশয় ফর্সা, স্লিম, খুব সুন্দরী, দুপুর বেলা আমার পড়ার ঘরে ঢুকে একদম ন্যাংটো হয়ে বল্লঃ যা খুশি কর। আমি ভয়ে, পাপের ভয়ে, ধরা পড়ার ভয়ে ঘর ছেড়ে পালিয়ে গেলাম। সে গালাগালি করে চলে গেল। বয়সে আমার মাস কয়েকের ছোট ছিল সেই সুন্দরী। আমাকে সে ক্ষমা করেছে কিনা জানি না।

২। আমাদের গ্রামের এক মাথায় থাকতো এক সুন্দরী। বয়সে আমার দুয়েক মাসের ছোট, কিন্তু ১২ বছর বয়সেই ওর বিয়ে হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু ওর বর ছিলো এক বিরাট বর্বর (পরবর্তী কালে নোংরা রাজাকার), ফলে ও বাপের বাড়িতেই থাকত বেশি। শহরে যেতে ওদের বাড়ির পাশ দিয়েই যেতাম। জানিনা আমার গায়ের গন্ধ পেতো কিনা, ঠিক আমার সামনে রাস্তায় এসে শুরু করতো অন্তহীন কথা, আর সঙ্গ ছাড়তো না।

আরো পড়ুন: বিয়ে না করে জীবন অতিবাহিত করার সুবিধা ও অসুবিধা গুলি কী কী

সত্য কথা হল ওর জন্য প্রবল দৈহিক আকর্ষণ অনুভব করতাম কিন্তু পরের বউয়ের দিকে হাত বাড়িয়ে কি লাভ? সে স্পষ্ট করেই বলে রেখেছিলো আমি যা ওকে করতে বলব, তাই সে করবে। বহুকাল পরে, আমার বউকে ওর কথা বলার পর ওকে বাসায় এনে আমাদের একমাত্র কন্যার দেখাশুনার দায়িত্ব দিলেন আমার স্ত্রী। আমেরিকা পাড়ি জমাবার আগে আমাদের মেয়েকে সেই দেখাশুনা করেছে। তার একমাত্র অপরাধ সে দরিদ্রা, এই হলো আমার স্ত্রীর ব্যাখ্যা। আর আমি যে ওকে একদম নাগালে পেয়েও ভদ্রলোক থেকেই যাব, সে বিশ্বাস আমার বউ কেন করতো সে আমার কাছে রহস্য।

৩। আমার বউকে না নিয়ে কোথাও আমি সামাজিক অনুষ্টানে যাই না। সে কথা সবাই জানে। আমার বউকেও ভালো করে চেনে। তার পরেও আমার সাথে খাতির করার চেষ্টা বেশ কয়েকজন (উনারা সবাই বিবাহিতা) করেছেন। আমার ধারণা আমার গল্প করার আর হাসিখুশি থাকার মত করে কথা বলার দ্বারা লোকের কাছে আপন হয়ে পড়েছি, আমার চেহারার খারাপ দিয়েও কথার ভালোর টান কাটানো যায়নি।

৪। আমি জেনেশুনে কারও ক্ষতি করিনি, বরং বারেবারে নিজের বিপদ ডেকে এনে মানুষের উপকার করার চেষ্টা করেছি। যদি এটা গুণ হয়ে থাকে, তাহলে গুণের টান শক্ত, রূপের টান দূর্বল এই রকম একটা থিওরি খাঁড়া করা যায়।

আরো পড়ুন: বিয়ের আগে এই ৪ টি মেডিক্যাল টেস্ট করানো জরুরি !

৫। এক বিদেশিনীর কাছে, সেই আমেরিকা থাকার কালে, আমার যে বউ বাচ্চা আছে সে কথা প্রথমদিকে লুকিয়েছিলাম। তাঁর নামের বাংলা হলো ‘অঘ্রাণের কচুরিপানা’। সে কালিনী, কিন্তু কি যাদুকরী তারঁ মুখশ্রী, কি ছন্দময় সুরেলা তার গলা, কি মিষ্টি তার কথা। ইউনিভার্সিটির হাসপাতালে সে ছিলো নার্স, আর এক বিশ্ববিখ্যাত অধ্যাপকের সহকারী হিসাবে আমি সেখানে যেতাম হেলথ ইকনমিক্সের গবেষণার জন্য উপাত্ত নিতে।

আমি বুঝতে পারছিলাম সে আমার জন্য অপেক্ষা করে। এক সময় সে আমার জন্য নানা উপহার কিনতে শুরু করলো, আর কয়েক বার সে আমাকে লাঞ্চ খাওয়াবার দাওয়াত দিলো, আমিও তার সাথে লাঞ্চ করেছি, আমিও তাকে দুয়েকবার ফুল দিয়েছি।

কিন্তু মানুষ ঠকিয়ে আমি পারবো না। আমি তাকে একদিন আমার বউবাচ্চার ছবি দেখালাম। সে কাঁদে নি, কেবল বলেছিল আই এম টূ লেইট মোহাম্মদ। কচুরিপানার সাথে আমার একটা ছবি আছে, সেটা কচুরিপানার কাছেই আছে। ১৯৯৪ সালের পর থেকে আর যোগাযোগ রাখি্‌ নি তার সাথে। কি দরকার মিথ্যা আশার কুহক দিয়ে কাউকে ভুলিয়ে রেখে?

৬। চেহারা খারাপ? চরিত্রটা ভালো করে নিন, দেখবেন সব নারী আর আনাড়ী আপনাকে নিয়ে করবে কাড়াকাড়ি। রূপের তাৎক্ষণিক আকর্ষণকে ডিঙ্গিয়ে গুণের বাঁশরি বাজিয়ে দিন, চরিত্র রাখুন উচ্চে। রূপের ঘাটতি পুষিয়ে দিন গুণের বাড়তি দিয়ে।

Write A Comment

three × five =

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close